ঢাকায় বাসে ই-টিকিটে বাড়তি ভাড়ার ফাঁদ

0
127

বাবাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়া নগর পরিবহণে বাড়তি ভাড়া আদায় রোধে চালু ই-টিকিটের শুরুতে যাত্রীরা স্বস্তিবোধ করেছিলেন। কিন্তু কিছু দিন না যেতেই তা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ ই-টিকিটিংয়ে বাড়তি ভাড়া আদায়ের ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে একই দূরত্বে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে পাঁচ টাকা। খুচরা না থাকার অজুহাতে ই-টিকিটিংয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া বাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়ানো হচ্ছে যাত্রী ভোগান্তি।

ঢাকার কিছু বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন নৈরাজ্য বন্ধে ই-টিকিট সুষ্ঠু মনিটরিং প্রয়োজন। নতুবা মুখথুবড়ে পড়বে এ উদ্যোগও।

ঢাকার মিরপুরের কালশী থেকে গত ২৮ সেপ্টেম্বর যমুনা ফিউচার পার্ক এলাকায় আসেন আব্দুল হান্নান। তার কাছ থেকে রাজধানী পরিবহনের ই-টিকিটে ভাড়া রাখা হয় ১৫ টাকা। তিনি গত ১২ অক্টোবর কালশী থেকে এ দূরত্বে আসার সময় তার কাছ থেকে রাখা হয়েছে ২০ টাকা। প্রায় দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাঁচ টাকা ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার অভিযোগের সূত্র ধরে সোমবার কালশি মোড়ে গিয়ে দেখা গেছে, রাজধানী ও অছিম পরিবহণের কাউন্টার গুলোতে এ দূরত্বে ২০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। কালশী থেকে যমুনা ফিউচার পার্ক পর্যন্ত আসা আজাদুর রহমান স্থানীয় দৈনিক যুগান্তরকে বলেন, তার কাছ থেকেও ২০ টাকা রাখা হয়েছে। আগে তিনি ১৫ টাকায় এ দূরত্বে আসতেন। এখন অছিম ও রাজধানী পরিবহণে মিরপুর-১২ নম্বর থেকেও যমুনা ফিউচার পার্ক পর্যন্ত দূরত্বে ২০ টাকা ভাড়া রাখা হচ্ছে। কালশী থেকে যমুনা ফিউচার পার্ক এলাকার দূরত্ব ছয় কিলোমিটার। সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী এ দূরত্বে ভাড়া আসে ১৫ টাকা। নগর পরিবহণে ই-টিকিট চালুর পর ভাড়া ১৫ টাকাই আদায় করা হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে ১৫ টাকার ভাড়া বাড়িয়ে ২০ টাকা করা হয়েছে কেন? কালশীতে রাজধানী পরিবহণের টিকিটিংয়ের দায়িত্বে থাকা আক্তার হোসেনের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

এ সময়ে বিভিন্ন দূরত্বে যাওয়া যাত্রীদের কাছ থেকে খুচরা নাই অজুহাতে বাড়তি ভাড়া আদায়ের চিত্র দেখা গেছে, অছিম পরিবহন, প্রজাপতি, নূরে মক্কাসহ ই-টিকিটে চলা বিভিন্ন পরিবহণে।

এম করিম নামে এক যাত্রী আরো বলেন, পূরবী থেকে যমুনা ফিউচার পার্ক পর্যন্ত ভাড়া ২০ টাকা। অথচ তার কাছ থেকে ৩০ টাকা ভাড়া নিয়ে টিকিট ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিবাদ করলে সংশ্লিষ্টরা দুর্ব্যবহার করেন যাত্রীদের সঙ্গে।

তবে একজন পরিবহণ শ্রমিক নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, কৌশলে বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বাসের ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে। কিছু দিনের মধ্যেই ই-টিকিট আগের এনালগ ভাড়া আদায়ের পর্যায়ে ফিরে যাবে। এ ব্যবস্থা চালু থাকায় এর প্রতিবাদ করতেও যাবেন না যাত্রীরা।

এদিকে একাধিক যাত্রী যুগান্তরকে জানিয়েছেন, যেসব রুটে ই-টিকিট চালু হয়েছে। সেসব রুটে গাড়ির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও বাসের দেখা মেলে না। দিনে সহনীয় মাত্রায় থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে যানবাহন সংকট চরম আকার ধারণ করে। মাঝে মধ্যে দুয়েকটি গাড়ি এলেও যাত্রীতে ঠাসা থাকে। এসব গাড়িতে ওঠার কোনো উপায় থাকে না।

বাংলাদেশের ঢাকা সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, কিছু বাসমালিক ও শ্রমিক ই-টিকিটিংয়ে অসহযোগিতা করছেন। এ কারণে বাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। তা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে ঢাকা সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ কাছে থেকে জানা যায়, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে ই-টিকিটিং উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ নিরসনে আমরা কাজ করছি।
বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, পরিবহণে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধে বিআরটিএর মোবাইল কোর্ট নিয়মিত অভিযান করছে। আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

আর বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী দৈনিক যুগান্তরকে বলেন, আমাদের কাছেও অভিযোগ আছে, কোনো কোনো রুটে আগের ওয়েবিলের মতোই বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ই-টিকিটিংয়ে। গত ৩১ আগস্ট বনানীতে বিআরটিএ কার্যালয়ে বাস-মিনিবাসের ভাড়া পুনর্নির্ধরণসংক্রান্ত সভা শেষে ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দেন ঢাকা সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ। ই-টিকিটিংয়ের ব্যবস্থাটি ধীরে ধীরে সব পরিবহনের বাসে বাধ্যতামূলক করা হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here