অনিয়ম-দুর্নীতিতে নিমজ্জিত নাগেশ্বরী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ নাগেশ্বরী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট কলেজ তো নয় যেন ভূতের বাড়ি। বাইরে থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মনে হলেও কাছে গেলে দেখা যায় পরিত্যাক্ত কোন গোডাউন ঘর। ক্লাস রুম লতাপাতা আর জঙ্গলে ঘেরা। সারিবদ্ধ ব্রেঞ্চ থাকলেও নেই শ্রেণি পাঠদানের কোন চিহ্ন। আছে শুধু পোকামাকড় এবং অপরিচ্ছন্নতার নিদর্শন।
নানা অনিয়ম আর দুর্নীতিতে নিমজ্জিত নাগেশ্বরী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট। নিয়মিত খোলা হয়, ল্যাব, শিক্ষার্থী কমন রুম, শিক্ষক মিলয়নায়তন ও অধ্যক্ষের কক্ষ। উত্তোলন করা হয় জাতীয় পতাকা। কিন্তু ছাত্র-ছাত্রীর শ্রেণী কক্ষ মাসেও একবার খোলা হয় না। খাতায়-কলমে শিক্ষার্থী উপস্থিতি দেখানো হলেও বাস্তবের চিত্র একেবারে ভিন্ন!
অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে ওই কলেজে উপস্থিত হয় একদল সংবাদকর্মী। অধ্যক্ষের কক্ষ খোলা থাকলেও উপস্থিত ছিল না অধ্যক্ষ। পরে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি দেখে অফিস পিয়ন তড়িঘড়ি করে খবর দিলে হাজির হন অধ্যক্ষ। শিক্ষক মিলনায়তনে ৩ শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও বাকীরা অনুপস্থিত। শিক্ষার্থীদের টিনশেড ঘরটি তালাবদ্ধ। নেই কোন শিক্ষার্থীও। আশপাশে জঙ্গলে ঘেরা। কিছু ভাঙা ব্রেঞ্চ আর লতাপাতায় ভূতুড়ে অবস্থা শ্রেণী কক্ষের।
ভর্তিকালীন সময়ের অজুহাতে শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি- এমনটাই দাবি কর্তৃপক্ষের। এছাড়া ল্যাবে সাজানো-গোছানো চেয়ার- টেবিল থাকলেও নেই কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোচিং বাণিজ্যের কারণে শিক্ষার্থী উপস্থিতি শূন্যতায়, ভেঙে পড়েছে কলেজের পাঠদান কার্যক্রম। সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা সত্বেও শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির ব্যাপারে মাথাব্যথা নেই কলেজ কর্তৃপক্ষের। মাসের পর মাস শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির কারণে অনিশ্চিত ভবিষ্যত এই কলেজের।
আরও অভিযোগ রয়েছে, মুহঃ আমিনুল ইসলাম প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ও জমিদাতা হওয়ার সুবাদে কায়েম করেছেন একচ্ছত্র আধিপত্য। কলেজের নামে জমি লিখে দিলেও- কলেজ ভবন নির্মাণ করেননি সেই জমিতে। আশ্রয় নিয়েছেন প্রতারণার। কলেজের নামে লিখে দেয়া জায়গায় ফসল চাষাবাদ করে ভোগদখল করছেন তিনি।
টেন্ডার প্রক্রিয়া ও কাজ বাস্তবায়ন কমিটি ছাড়াই নিজের মত করে কলেজ উন্নয়নে অর্থ ব্যয়, ল্যাবের কম্পিউটার ও ল্যাপটপ আত্মসাত, শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নেয়া ফরম পূরণ, পরীক্ষা ও ভর্তি ফি’র অর্থ নামীয় বিকাশ একাউন্টে নেয়ার নিয়ম থাকলেও তা না করে অধ্যক্ষ ব্যক্তিগত বিকাশ একাউন্টে লেনদেন করে থাকেন। হয়রানির ভয়ে অধ্যক্ষের নানা অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে কথা বলতে নারাজ এলাকাবাসী এবং ওই কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা।

নাগেশ্বেরী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মুহঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠান চালাতে গেলে একটু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকে। কলেজটি আমার হাতে গড়া। এখানে আমি দুর্নীতি করবো এটা হতে পারে।

এ ব্যাপারে নাগেশ্বরী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ কামরুল ইসলাম জানান, বি.এম কলেজগুলোতে পর্যাপ্ত লোকবলের অভাবে দেখভাল করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত এ্যাকাউন্টে কলেজের অর্থ গ্রহণ ও ল্যাবের কম্পিউটার ও ল্যাপটপ তার বাড়িতে থাকার নিয়ম নেই। যদি তা প্রমাণিত হয় কার্যকরি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

কুড়িগ্রাম